সীতাকুণ্ড শ্বাসনালী কেটে শিশু হত্যা: একমাত্র আসামী বাবু শেখের মৃত্যুদণ্ড
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 09 Jul, 2026
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গলার স্বাসনালি কেটে আট বছর বয়সী শিশু জান্নাতুল নাইমা ইরাকে হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি বাবু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) জান্নাতুল ফেরদৌস আলেয়া এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাবু শেখ , গাইবান্ধার জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মধ্যম পুলুপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
রায়ে আদালত দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার অপরাধে আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা অর্থ দণ্ড প্রদান করেন। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)- এর ৭ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং একই আইনের ৯(৪)(খ) ধারায় ধর্ষণের চেষ্টার অপরাধে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। সব মিলিয়ে আদালত আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আ ন ম কামরুল হাসনাত চৌধুরী। বাদীপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু ও অ্যাডভোকেট রিক্তা বড়ুয়া।
আসামিপক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী হিসেবে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট বিবেকানন্দ চৌধুরী।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামান জানান, ঘটনার পরপরই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ, আলামত সংগ্রহ, সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হয়েছে।
নিহত ইরার মা ও মামলার বাদী রোকেয়া বেগম জানান, আমার মেয়েকে আর কোনোদিন ফিরে পাব না। তবে যারা আমার মেয়ের সঙ্গে এমন নিষ্ঠুরতা করবে, তাদেরও যেন একই পরিণতি হয়। আদালত যে বিচার করেছেন, তাতে আমি সন্তুষ্ট। আল্লাহর কাছে শুধু দোয়া করি, আর কোনো মায়ের কোল যেন এভাবে খালি না হয়।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, গত ১ মার্চ সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড় এলাকায় শিশু জান্নাতুল নাঈম ইরাকে হত্যা করা হয়। তদন্ত শেষে গত ১৫ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক কামরুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
গত ১৮ জুন আদালত অপহরণ, ধর্ষণের চেষ্টা ও হত্যা ধারায় অভিযোগ গঠন করেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। গত ২ জুলাই উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায়ের জন্য ৯ জুলাই দিন ধার্য করেন। নিহত ইরা মনি সীতাকুণ্ড উপজেলার ছোট কুমিরা মাস্টারপাড়ার টমটমচালক মনিরুল ইসলামের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১ মার্চ চকলেট কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ইরা মনিকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায় অভিযুক্ত বাবু শেখ। পরে সীতাকুণ্ডের বোটানিক্যাল গার্ডেন-সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি প্রকাশ করে দেওয়ার কথা বললে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির গলা কেটে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর ইরা মনির মা সীতাকুণ্ড থানায় মামলা দায়ের করেন।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

